আপনার দৃষ্টিতে প্রকৃত ভালো মানুষের কী কী গুণ থাকা উচিত বলে মনে করেন?
- প্রকৃত ভালো মানুষ বলতে কাকে বোঝায় আমি আজ পযর্ন্ত বুঝলাম না।
দাঁড়ান একটা ছবি দেখাই :
এই ছেলেটিকে নিয়ে এখন খুব চর্চা হচ্ছে।
- ছেলেটির গুণ :
সাধারণ মানুষ হিসেবে :
- অন্তর্মূখী স্বভাব।
- খুব আস্তে আস্তে কথা বলত।
- গলার স্বর বেশি চড়িয়ে বলত না।
- সবার সাথে হেসে হেসে মিষ্টি করে কথা বলত।
- সকালে ঘুম থেকে উঠত। তবে খুব কম ঘুমোতো বলে কাজের জন্য প্রচুর সময় পেত। এটা তাঁর শরীরের উপর খারাপ প্রভাব ফেলত না।
- ব্যায়াম করত।
- পুষ্টিকর খাবার খেত।
- শরীর - স্বাস্থ্যের যত্ন নিত।
- সময় পেলেই প্রচুর বই পড়ত এবং বইয়ের পছন্দের 'কোড' লিখে রাখত।
- পুরানো জিনিস বা ফেলে দেওয়া জিনিস থেকে নতুন ধরনের জিনিস তৈরি করত।
- ঈশ্বরের গান করত ( শিব ) ও শুনতে ভালোবাসত।
- টেলিস্কোপ কিনে তারা দেখত।
- মেটা ফিজিক্স ও অ্যাস্ট্রোনমি নিয়ে কাজ করছিল।
- কোড নিয়ে কিছু একটা ভাবছিল।
- ডাইরি লিখত।
- কুকুরদের খুব ভালোবাসত।
- ইঞ্জিনিয়ারিং - এর পরীক্ষার এন্ট্রান্সে খুব ভালো রেজাল্ট করেছিল। একটাতে সপ্তম হয়েছিল।
- ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে পুরস্কার পেয়েছিল।
- স্ট্যানফোর্ড ( Stanford ) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৃত্তি (scholarship) পেয়েছিল।
- দু হাতে সমান গতিতে লিখতে পারত।
- ভালো গিটার বাজাতে পারত।
- ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই।
- সবশেষে বলব সে তাঁর মাকে খুব ভালোবাসত।
সফলতা :
- ভালো নাচতে পারত, অভিনয়ও ভালো ছিল; সেই জন্য অনেক নাম কুড়িয়েছিল।
- বেশিরভাগ সিনেমাতে ভালো প্রশংসা পেয়েছে দর্শকদের কাছ থেকে।
- নিজের স্বপ্নের গাড়ি কিনেছিল।
- বাড়িটাও পছন্দের জায়গাতে ভাড়া নিয়েছিল।
- নিজের কিছু স্বপ্ন পূরণ করেছিল, আরও কিছু বাকি ছিল।
- খারাপ গুণ :
প্রথম প্রেম সম্পর্কে : প্রথম প্রেমিকা অঙ্কিতাকে কেন ছেড়ে দিল কেউ জানে না। অঙ্কিতাও সেই সময় খুব কষ্ট পেয়েছিল, মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিল। তারপর নিজেকে সামলে নেয়। - এটা তাঁদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাও কিছু মানুষ প্রশ্ন করেন, তাই বলা।
বাতিক ছিল : চোখ পিট পিট করা, গা চুলকানো, হাত- পা খুব নড়িয়ে কথা বলা - এই রকম সমস্যা বহু মেধাবীর থাকে। নখ খায় অনেকে। তা সত্ত্বেও অনেকে নিজের নিজের পেশাতে সেরা, সুখে সংসার করছে। কিন্তু সুশান্ত সিং রাজপুতকে 'পাগল' বলে মিথ্যে বদনাম দিতে থাকে। - এটা অনেকের চোখে গুরুতর খারাপ গুণ।
সঠিক সময়ে নিজের হয়ে কথা বলত না : বর্তমান যা যুগ, এখন বেশি চুপ থাকলে অনেক সময় বিপদ হয়। ভদ্র ভাবে নিজের হয়ে কিছু ক্ষেত্রে কথা বলা উচিত। না হলে মিথ্যে বদনাম রটতে থাকবে, সেই চাপ সবাই নিতে পারে না। তার থেকে অবসাদ আসে। সুশান্ত সিং রাজপুত ওটা করে নি। বরং ভেবেছিল চুপ থাকা ভালো। চুপ থাকা অবশ্যই ভালো, কিন্তু যদি ক্রমাগত ওটি বদনামে পরিণত হয়, তখন ভদ্রভাবে প্রতিবাদ করা দরকার।
পড়াশোনা বা দার্শনিক কথা যেখান সেখান বলে দিত : আমাদের সবার ধারণা অভিনেতা মানে সব জায়গাতে তাদের অভিনয় দেখাব। আমরা তাদের দেখে মজা লুটব। সুশান্ত সিং ঐটা মনে রাখত না। অনেকে ঐজন্য 'ছেলেরূপ বেহেনজী' বলত। তাঁর নিয়ে ঐজন্যও খারাপ খারাপ কথা লেখা হত। কলেজে বা স্কুলে বক্তৃতা দিলে বা কিছু আর্টিকেল লিখতে হলে ঐসব বলা যায়, অথবা নিজের কাছের মানুষদের বলা যায়, কিন্তু এখনকার দিনে সব জায়গায় বললে মহা বিপদ হয়।
- এইবার আপনি বলুন প্রকৃত ভালো মানুষ বলতে কী বুঝলেন। কী কী গুণ থাকা উচিত?
আমাদের সমাজের নিয়ম অনুসারে সুশান্ত সিং রাজপুতের গুণগুলো দেখে প্রকৃত ভালো মানুষ বলে মনে হচ্ছে। তাও তাঁর কত নিন্দা! আমি বুঝেছি, প্রতিটি মানুষের মধ্যে কিছু না কিছু সমস্যা আছে। প্রকৃত ভালো কেউ হতে পারে না।
কেউ কোনো দিন সবার কাছ থেকে প্রশংসা পেতে পারে না। ১০ % মানুষ নিন্দা করবেই।
বেশি নিজে ভালো ভালো মনে করাও এক প্রকার খারাপ গুণ।
এই বিষয়ে আপনার কী মত? মন্তব্যে জানান।
ধন্যবাদ। 🙂
0 Comments